
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে মোঃ জহিরুল হক (৩৭) সমকামী হিসেবে এলাকার মানুষের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সমকামিতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে তার সহকর্মী শাহিন আহমদ তার এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড গ্রামের সবাইকে জানিয়ে দেন।
এ খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকাবাসী বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক নূর ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব স্থানীয় মানুষের সঙ্গে একত্রিত হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক নূর জানান, মোঃ জহিরুলের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় সমকামিতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার শাস্তি দুই বছর থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য পাঠানো হয়েছে। যাদের মাধ্যমে তাকে ধরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে, তাদের জন্য ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব।
মো:জহিরুল হক নিজে তার বক্তব্যে জানান, ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় থেকে তিনি পিয়ের নামের এক সহকর্মীর সঙ্গে প্রেম ও লিভ-ইন সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। তাঁর পরিবার এ ব্যাপারে অনভিজ্ঞ ছিল। একদিন দোকানে মালিকের সিসি ক্যামেরায় তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত ধরা পড়ায় চাকরি চলে যায়। দেশে ফিরে এসেও ঘটনা গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় তাকে। সামাজিক অবমাননা এবং পুলিশের হুমকির মুখে দেশে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। যার কারনে জহিরুল হক চট্রগ্রামে বসবাস করেন কিন্তু সেখানে সে নিরাপত্তা বোধ না করায় তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে তিনি পুনরায় মালয়েশিয়ায় ফিরে যান, কিন্তু চাকরি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েন। যার জন্য জহিরুক হক বর্তমানে জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে কঠিন সংকটে আছেন।
স্টাফ রিপোর্টার : 












